২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শিরোনাম

হঠাৎ করে একি হলো মিন্নির

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে শেষ হবে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। এরপর মিন্নির পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে তার জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানি হবারও কথা রয়েছে। এরপরই মামলার রায়ের দিন ধার্য্য করবেন আদালত।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। আমরা মিন্নির স্বপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবো। আদালত চাইলে আজকে এক দিনেও যুক্তিতর্ক শেষ করতে পারেন কিংবা আংশিক শুনে পরবর্তীতেও দিন ধার্য করতে পারেন বলেও তিনি জানান।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু জানান, ২৬ ও ২৭ আগষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ ১০ আসামীর বিরুদ্ধে যুক্ততর্ক উপস্থাপন করেন তারা। ৩১ আগষ্ট থেকে এ পর্যন্ত মামলার ৯ আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক করেন তাদের আইনজীবীরা। আজ মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেছেন তার আইনজীবী।

তিনি আরও জানান, সাক্ষীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারী মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেন তারা। এরপর দফায় দফায় সময় নিয়েছে আসামীপক্ষ। আজ যুক্তিতর্ক শেষে মিন্নির জামিন বাতিলের শুনানির আবেদন করবেন তারা। এ মামলায় ৭৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ধার্য্য করবেন আদালত।

গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুই ভাগে বিভক্ত চার্জশিট দেয় পুলিশ। এরপর গত ১ জানুয়ারী হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে রিফাত ফরাজি, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, টিকটক হৃদয়, হাসান বন্ড, মুসা বন্ড,

ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বিরুদ্ধে ৩৪ ও ৩০২ ধারায় এবং রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল ইসলাম সাইমুন আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ২১২ ও ১২০ বি ১ ধারায় এবং আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ১২০ বি ১ ধারায় সাগরের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।