১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শিরোনাম

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যরাই, সভাপতি সৌরভকে নিয়ে অসন্তোষ

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০২০

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যরাই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কে নিয়ে প্রবল অসন্তোষ। আগামী ২৪-১২-২০২০ ডিসেম্বর বিসিসিআই-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় অনেকেই পণ্যের বিজ্ঞাপনে সৌরভের সই করা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বোর্ডের সদস্যদের মূল প্রশ্ন, বিসিসিআই সভাপতির সাম্মানিক পদে থেকে সৌরভ কী করে সেইসব পণ্যের বিজ্ঞাপন করেন, যেগুলি সরাসরি বোর্ডের স্পনসরদের স্বার্থবিরোধী। সৌরভের এই ভূমিকা নিয়ে বোর্ডের একাংশ অত্যন্ত অখুশি। বোর্ডের সৌরভ বিরোধী মহলের বক্তব্য, ক্রিকেট বোর্ডের স্পন্সর ড্রিম ইলেভেনের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা মাই ইলেভেন ডট কমের বিজ্ঞাপনী প্রচার করে সৌরভ ঠিক কাজ করেননি। ড্রিম ইলেভেন দুশো বাইশ কোটি টাকা দিয়ে স্পন্সরশিপ নিয়েছে। সেখানে বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিভাবে প্রতিদ্বন্দীদের প্রোমোট করেন? বোর্ডের সভায় এই নিয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করছেন বিরোধীরা।

সৌরভের ক্ষেত্রে একাধিক স্বার্থের সংঘাতের বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বোর্ড সদস্যরা। সৌরভকে নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলি হল, বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর তিনি কতগুলি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছেন? এগুলির মধ্যে কতগুলি সরাসরি বোর্ডের স্পনসরদের স্বার্থবিরোধী? যখন বিজ্ঞাপনে খোদ বোর্ড সভাপতি একটি ফ্যান্টাসি লিগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন, তখন বোর্ডের ভাবমূর্তির পক্ষে সেটা কি খুব ভাল? বোর্ডের সাম্মানিক পদে থেকে কেউ বিসিসিআই-এর নিজের স্পনসর বা বিরোধী স্পনসরদের বিজ্ঞাপন করবেন, বিসিসিআই-এর সংবিধান কি এর অনুমতি দিচ্ছে? প্রশ্ন আইপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়েও। আদানি গ্রুপ যেখানে আইপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে চায়, সেখানে সৌরভ এই সংস্থার একটি ভোজ্য তেলের বিজ্ঞাপন করেন। জেএসডব্লিউ সিমেন্টের সঙ্গে সৌরভ এই বছরের জুনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই সংস্থাই দিল্লি ক্যাপিটালসের ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। শুধু এটাই নয়, বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হয়েও সৌরভ নাকি আইপিএলের প্রায় সব গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে হাজির থেকেছেন। সদস্যদের প্রশ্ন, এটা কি স্বার্থের সংঘাত নয়? এরকম অজস্র প্রশ্ন এবং উদাহরণ নিয়ে বোর্ড সদস্যরা হাজির হবেন আমদাবাদে। বার্ষিক সাধারণ সভায় অন্তত ১২ জন বোর্ডসদস্য এই প্রশ্নগুলি তুলতে পারেন। এই নিয়েই তোলপাড় হতে পারে সভা।

সৌরভ এই ব্যাপারে নন কমিটাল। কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। কিন্ত দাদার শিবির চুপ করে বসে নেই। তারা বলছে, সৌরভের সঙ্গে যখন মাই ইলেভেনের চুক্তি হয় তখন তিনি বোর্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন না অথবা ড্রিম ইলেভেনের সঙ্গে বোর্ডের কোনও চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। অতএব স্বার্থের সংঘাতের কোনও প্রশ্ন ওঠেনা। যদি তিনি স্পন্সর হওয়ার পর ড্রিম ইলেভেন এরই বিজ্ঞাপন করতেন তাহলে এই প্রশ্ন উঠতো। বৃহস্পতিবারের সভায় এই প্রসঙ্গটি উঠলে ঝড়ের মুখে কুটোর মতো তা  উড়ে যাবে। অনেকেই মনে করছেন, সৌরভ শুধু বোর্ড প্রেসিডেন্ট নন, তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়।  তাই, তার অধিকারও আছে এন্ডোর্সমেন্ট করার।